পরীক্ষামূলক সংস্করণ

মৃত্যুতে উল্লাস এবং শোক দিবসে নৃত্য : আনিস আলমগীর

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

কারো মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করাকে চরম অসভ্যতা ও মানবতার অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করে সমাজ ও রাজনীতির দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ব্যক্তিগত পোস্টে সাংবাদিক আনিস আলমগীর মানুষের মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশের নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মতাদর্শের ভিন্নতা যা-ই হোক না কেন, যেকোনো মানুষের মৃত্যুতে আনন্দ বা উল্লাস প্রকাশ করা আমার দৃষ্টিতে চরম অসভ্যতা এবং এটি মূলত মানবতাবোধের চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। ইসলাম ধর্ম আমাদের সবসময় যেকোনো মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করার শিক্ষা দিয়েছে। অথচ বর্তমান সমাজে মানুষের মৃত্যুর মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়েও রাজনৈতিক স্বার্থ এবং প্রতিহিংসার কুৎসিত রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। মৃত ব্যক্তির প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন এবং পরমতসহিষ্ণুতাই কেবল একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের প্রকৃত পরিচয় বহন করতে পারে।

তিনি সমাজের এই নৈতিক স্খলনের পেছনে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, বিশ্ব বাটপার ইউনূস আমাদের এই ন্যূনতম মানবিকতাবোধটুকু শিখিয়ে যেতে পারেননি, বরং তিনি সমাজে কেবল তীব্র প্রতিহিংসা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। অথচ এই পৃথিবীতে মৃত্যু সবার জন্যই একদিন অবধারিত, তাই কারো মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি চলমান বাস্তবতার উদাহরণ টেনে বলেন, আজ দেখছি অনেকেই এই সত্যটি উপলব্ধি করতে শুরু করছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর মতো জাতীয় শোক দিবসে যারা ১৫ আগস্টে ডিজে পার্টি করে উদ্দাম নৃত্যের আয়োজন করতো কিংবা সেসবের জোরালো সমর্থন দিতো, তারা যদি কারিনা কায়সারের মৃত্যুর আগেই এই সহজ ও সাধারণ বিষয়টি বুঝতে পারতেন, তবে আমাদের আজকের এই সমাজটা অনেক বেশি সুন্দর এবং মানবিক হতে পারত।

নিজের অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আনিস আলমগীর লেখেন, কয়েক বছর আগে যখন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু হয়েছিল, তখন একজন মানুষ হিসেবে আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তখন একদল মানুষ আমার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং রাতারাতি আমার প্রগতিশীলতার সনদ পর্যন্ত খারিজ করে দিয়েছিল। অথচ আজ সেই একই ঘরানার মানুষগুলোকে যখন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে অবস্থান পরিবর্তন করতে দেখছি, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ অবাক হতে হচ্ছে। তাদের এই পরিবর্তন মূলত মানবতার স্বার্থে কিংবা কোনো নৈতিক আদর্শের কারণে নয়, বরং সম্পূর্ণ যার যার নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্যই হচ্ছে।

প্রধান খবর

বাংলাদেশ গড়ার কাজ নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলাধুলা ও শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসছে...