রংপুরের বদরগঞ্জে প্রতিবেশী চাচা কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও দীর্ঘ ৩ মাসেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যার মধ্যে ওই শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রতিবেশী চাচা আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ও বালু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ১ এপ্রিল বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলা দায়েরের ৩ মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্ত শরিফুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা একজন দিনমজুর কৃষি শ্রমিক, যিনি কাজের সন্ধানে বাইরে থাকার সুযোগে শরিফুল ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শরিফুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে গত ১৫ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থী একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেয়। চিকিৎসা ও ওষুধপথ্য বাবদ দিনমজুর বাবার খরচ হয় ১২ হাজার টাকা, যা তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে মেটান।
বর্তমানে দরিদ্র পরিবারটি নবজাতক সন্তানকে নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অভাবের সংসারে মা ও শিশুর পুষ্টিকর খাদ্য, চিকিৎসা ও নবজাতকের খরচ বহন করতে পরিবারটি হিমশিম খাচ্ছে। শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেছেন যে, তারা দরিদ্র হওয়ায় বিচার পাচ্ছেন না এবং আসামির পরিবারের লোকজন তাদের প্রতিনিয়ত গালিগালাজসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহেদ দাবি করেছেন যে, তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং মামলার পর থেকে তিন মাস ধরে শরিফুল বাড়িতে নেই। স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মা ও শিশুর জন্য জরুরি সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।



