‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সংকটের সময়ে মানুষের সাহস ও ঐক্য প্রমাণ করেছে যে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে সব ধরনের বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। এই সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, শুধু সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করলেই রাষ্ট্রব্যবস্থা সুরক্ষিত হয় না। মানুষের মানসিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। আইন থাকার পরও কোনো সুযোগে স্বৈরাচারী প্রবণতা ফিরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থে সবাইকে একটি অভিন্ন জায়গায় আসতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, একটি জাতির শক্তির ভিত্তি শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি বা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না; ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধও জাতির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা এবং অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, সাফল্যের জন্য ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রম ও আদর্শিক চেতনা ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।



