ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে জন্মের ২৭ বছর পর আরিয়ান নামের এক যুবককে নিজের সন্তান হিসেবে লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় স্বীকৃতি দিয়েছেন তার বাবা।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে জন্ম নেওয়া আরিয়ানের (ছদ্মনাম) জন্মের সময় তার বাবা মুরশেদ প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। আরিয়ানের জন্মের পূর্বেই তার মা-বাবার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং পরবর্তীতে মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে শিশুটি মামার বাড়িতে বড় হতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আরিয়ান জানতে পারেন যে তার বাবা বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আরেকটি সংসার শুরু করেছেন। নিজের পিতৃত্বের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে আরিয়ান বাবার মুখোমুখি হলে বাবা মুরশেদ তাকে সন্তান হিসেবে মেনে নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক কটু কথা থেকে বাঁচতে ও বাবার পরিচয়ের আশায় ২০২৪ সালে আরিয়ান তার মাকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে বাবা ও ছেলেকে তলব করা হলে সেখানেও বাবা তার দাবিতে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রতিবেদনে আরিয়ানের দাবির শতভাগ সত্যতা প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদন লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে প্রেরণ করে। এই অকাট্য প্রমাণের পর মঙ্গলবার, ৯ জুন চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ সুব্রত দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ মধ্যস্থতা সভায় আইন সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২১গ ধারার বিধান অনুযায়ী পিতা মুরশেদ ও ছেলে আরিয়ানের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাবা মুরশেদ আরিয়ানকে নিজের বৈধ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তার সম্পত্তিতে আইনগত উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেন এবং নিজের জমিতে ঘর তৈরি করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের কাছে সন্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। দীর্ঘ ২৭ বছর পর বাবা ও ছেলের এই আবেগঘন মিলন এবং একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরার ঘটনায় লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে তাদের শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়, যা দুই পরিবারে দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্টের অবসান ঘটিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।



