বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার এবং অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করার এক বিশাল উচ্চাভিলাষী মহাপ্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা মামুনুল হক এই প্রস্তাবিত বাজেটকে জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা পূরণের জন্য সরকার বৈদেশিক দাসত্ব এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে, যা বেসরকারি খাতকে স্থবির করে জনগণের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি সরকারের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাকে বাজার বাস্তবতায় রূপকথা এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর চাবুক চালানোর শামিল বলে মন্তব্য করেন। বাজেটের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ বৈষম্য তুলে ধরে তিনি জানান, যেখানে দেশের সিংহভাগ মানুষ নির্ভরশীল সেই কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা, অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে ৩১,০৯৯ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে মাত্র ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা দিয়ে চরম অবহেলা করা হয়েছে এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের দুই বিভাগে যথাক্রমে ৪৯,৩৮৭ কোটি ও ১৩,৪৬৬ কোটি টাকার নামমাত্র বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারসহ জাতীয় আন্দোলনের শহীদদের পুনর্বাসনে কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল বা বিশেষ বরাদ্দ না রাখায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবৃতির শেষে তিনি বাজেট পাসের আগে কৃষি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ সংযোজনের দাবি জানান।



