পরীক্ষামূলক সংস্করণ

‘মিথ্যা তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে’

আলোচিত ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমেদ প্রধানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই মন্তব্য করেন। তিনি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে লিখেছেন, জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে জামায়াতের আমির, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং শিবির-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অনলাইন বট ও ভুয়া (ফেক) আইডিগুলো থেকে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, তারা সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা বারবার দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জামায়াত-শিবিরের প্রচারণার সমালোচনা করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আরও লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই জিসান আহমেদের ঘটনাটিকে সুনির্দিষ্টভাবে অপহরণ ও ‘গুম’ হিসেবে সমাজের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এমনকি তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্বহীন বক্তব্য এবং অনলাইন সমর্থকদের ব্যাপক প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়, যেন এটি রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতার কোনো গুরুতর ঘটনা। অথচ ‘গুম’ শব্দটি কোনো সাধারণ বা হালকা অভিযোগ নয়; এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, যার সঙ্গে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার প্রশ্ন জড়িত থাকে।

পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলো ফেলে লিখেন, এখন পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরো ঘটনাটি কোনোভাবেই অপহরণ বা গুমের ঘটনা নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা দেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। নাছির উদ্দীন প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি তদন্তে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে— কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল কি এত বড় একটি স্পর্শকাতর অভিযোগ দেশবাসীর সামনে উত্থাপনের আগে ন্যূনতম সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনও অনুভব করে না?

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, অভিযোগের সত্যতা বিন্দুমাত্র যাচাই করার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুসংগঠিত উপায়ে একটি সাজানো ‘গুম’ বয়ান বা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের আবেগ উসকে দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, অথচ পরে যখন প্রকৃত ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে তখন সেই অপপ্রচারণার দায় তাদের কেউ নিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বারবার দেখা যাচ্ছে তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক বয়ানকে এবং সত্যের চেয়ে সুনির্দিষ্ট মিথ্যা প্রচারণাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য যদি যাচাইকৃত তথ্যের পরিবর্তে কেবল অনুমান, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়ায়, তাহলে তা শুধু দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং অতীতে ঘটে যাওয়া প্রকৃত গুম, অপহরণ বা প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর গুরুত্ব ও ভয়াবহতাও সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা কমিয়ে দেয়।

সবশেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির লিখেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে দেশের সাধারণ জনগণ সবসময় সত্যভিত্তিক অবস্থান প্রত্যাশা করে, কোনো ধরনের সস্তা প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার নয়। জিসান ইস্যুতে অন্তত এটুকু পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়েছে যে, মিথ্যা অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবির যতটা তৎপরতা ও ব্যস্ততা দেখিয়েছে, প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তার সামান্য অংশও তাদের মধ্যে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের নোংরা প্রবণতা ও অপসংস্কৃতি দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর জন আস্থার জন্য মোটেও শুভ নয়।

 

প্রধান খবর

বাংলাদেশ গড়ার কাজ নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলাধুলা ও শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসছে...