সম্পদের কর ফাঁকি দেওয়ার প্রচলিত পথ বন্ধ করতে আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্নে উত্তরাধিকারসূত্রে বা উপহার হিসেবে পাওয়া সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর ধরে দেশের ধনী করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্নে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, জমি ও স্বর্ণালঙ্কারের বিবরণ দিলেও সেসব সম্পদের মূল্যের ক্ষেত্রে ‘মূল্য অজানা’ কথাটি লিখে রাখতেন। এর ফলে করদাতাদের কোটি কোটি টাকার বাস্তব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সরকার এসব সম্পদ থেকে কোনো ধরনের রাজস্ব বা কর পেত না। ধনীদের এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে এবার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার আওতায় করদাতাদের ট্যাক্স ফাইলে রিটার্ন জমার সময়েই এই জাতীয় সমস্ত সম্পদের সঠিক অর্থমূল্য সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশে সরাসরি কোনো সম্পদ কর বা সম্পত্তি কর না থাকলেও চার কোটি টাকার উপরে নিট সম্পদ থাকলে করদাতাদের প্রতি বছরের আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ দিতে হয়।
নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এনবিআর শিগগিরই দেশের ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন এলাকা অনুযায়ী বিগত চল্লিশ বছরের মৌজা মূল্যের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। সম্পদের সঠিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এই সংগৃহীত তথ্য এনবিআরের অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমে সরাসরি যুক্ত করা হবে, যার ফলে আগামী বছর থেকে করদাতাদের জমি, ফ্ল্যাট কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ‘অজানা’ দেখানোর আর কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না। নতুন পদ্ধতিতে সম্পদের এই সঠিক অর্থমূল্য মূল্যায়নের কারণে নতুন করে প্রায় চার হাজার করদাতা সারচার্জের আওতায় আসবেন, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি চার কোটি টাকার সম্পদের সীমা অতিক্রম করবেন। পাশাপাশি, বর্তমানে যারা ইতিমধ্যেই এই সারচার্জের আওতায় আছেন, তাদেরও মোট সম্পদের অর্থমূল্যের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সরকারের পক্ষে বাড়তি প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আয়কর পরিপত্র প্রকাশ করা হবে, যেখানে কীভাবে এই সম্পদের আর্থিক মূল্যায়ন করা হবে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্টীকরণ করা হবে।



