চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক ও রাত্রিযাপনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতকৃত প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এরই মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন। এখন এই সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতির আদেশের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২০ইউনিল ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন পরীমনি। সেই মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্তের সূত্র ধরে পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠতা ও অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সাকলায়েন বিভিন্ন সময়ে পরীমনির বনানীর বাসায় অবস্থান ও রাত্রিযাপন করেছেন। এছাড়া সিআইডির জব্দ করা পরীমনির মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্টে তাদের ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা মেসেজে অনৈতিক সম্পর্কের অকাট্য প্রমাণ মেলে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ১ আগস্ট। সিআইডির সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সাকলায়েনের পূর্বপরিকল্পনায় তার রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী না থাকার সুযোগে পরীমনি সেখানে যান। সেখানে তারা টানা প্রায় ১৭ ঘণ্টা একসঙ্গে অবস্থান করেন এবং পরদিন ২ আগস্ট রাত দেড়টায় পরীমনি সেই বাসা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট পরীমনির বাসায় র্যাবের অভিযানে বিদেশী মদসহ তিনি গ্রেপ্তার হন। সাকলায়েন ও পরীমনির এই সম্পর্কের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
সমালোচনা শুরুর পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে প্রথমে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) এবং পরে ঝিনাইদহে বদলি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনের তদন্তে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও এমন নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ করায় তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সাকলায়েনের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৩ জুন জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব রোকেয়া পারভীন জুঁই স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পিএসসির মতামত পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।



