পরীক্ষামূলক সংস্করণ

প্রটোকল সংস্কৃতি ও আমলাতন্ত্রের অন্ধকার দিক

সরকারি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রটোকল, আপ্যায়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার অধস্তন কর্মকর্তাদের অনৈতিক পথে চলতে বাধ্য করছে এবং এটিই প্রশাসনে বড় ধরনের দুর্নীতির ভিত্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রটোকল সংস্কৃতি, আপ্যায়নের নামে অর্থের অপচয় এবং ক্ষমতার অনৈতিক ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, এক শ্রেণির ঊর্ধ্বতন আমলার অনৈতিক ও বিলাসী আচরণ জুনিয়র কর্মকর্তাদের দুর্নীতির পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং প্রশাসনের নৈতিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণ দুর্বল করে দিচ্ছে। সততা না থাকলে উচ্চশিক্ষা বা বিভিন্ন ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একজন আমলাকে তার বাহ্যিক চাকচিক্য, পোশাক কিংবা শুধু বক্তৃতা দিয়ে বিচার করা যায় না।

সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব অভিযোগ করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কিংবা ব্যক্তিগত সফরে গেলেই অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর প্রটোকল, অতিরিক্ত আপ্যায়ন, গাড়ির ব্যবস্থা, ফুলের তোড়া, ভোজ ও দামি উপহারের চাপ সৃষ্টি হয়। এসব বিলাসী আয়োজন করতে গিয়ে অধস্তন কর্মকর্তারা অনেক সময় চাঁদা, ঘুষের অর্থ কিংবা অফিস থেকে বেআইনিভাবে তোলা সরকারি অর্থ ব্যবহার করতে বাধ্য হন। পদোন্নতি বা চাকরি রক্ষার স্বার্থে অধিকাংশ জুনিয়র কর্মকর্তা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না। বরং তারা চাকরির শুরু থেকেই এমন অনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হন, যা পরবর্তীতে তাদের বড় ধরনের দুর্নীতির দিকে ধাবিত করে।

অভিযোগের সপক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব দাবি করেন, ২০২০ সালে তৎকালীন বিদ্যুৎ সচিব ব্যক্তিগত সফরে পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে নিয়ে ফেনী হয়ে খাগড়াছড়ি যান। ওই ব্যক্তিগত সফরের প্রটোকল, যানবাহন ও আপ্যায়নের অনৈতিক দায়িত্ব পড়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ফেনী কার্যালয়ের ওপর। সেই সফরে শুধু আপ্যায়ন বাবদই প্রায় অর্ধ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। সফরটি সরকারি না হওয়ায় পিডিবির কুমিল্লা অঞ্চলের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী প্রটোকলে উপস্থিত ছিলেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৎকালীন বিদ্যুৎ সচিব তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন এবং পরে সেই আদেশ কার্যকরও করা হয়, যদিও ওই কর্মকর্তা সেদিন ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। এ ছাড়া তৎকালীন ওই বিদ্যুৎ সচিব চট্টগ্রাম সফরে গেলে সরকারি পুলের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও পিডিবির প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি দিনরাত নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারে রাখতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা হয়তো দৃশ্যত বড় অর্থনৈতিক দুর্নীতির তুলনায় ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু নৈতিকতার বিচারে এগুলো রাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় সংকটের প্রতীক। প্রটোকল ও আপ্যায়নের পেছনে সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও মেধার অপচয় হচ্ছে, যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি প্রশাসনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সভা-সেমিনারে দুর্নীতিবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে আমলাতন্ত্রে পরিবর্তন আসবে না। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতি ও অগ্রগতি সম্পূর্ণ নির্ভর করে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন আমলাতন্ত্রের ওপর।

প্রধান খবর

কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে র‍্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

মুনতাসীর মামুন : টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে টাউনহল সভায় সিদ্ধান্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে

আসছে...