পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম, বিপিএলে লুটপাট ও বেক্সিমকোর মাধ্যমে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের আমলের যাবতীয় নথিপত্র তলব করেছে দুদক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের মেয়াদের বিভিন্ন বড় প্রকল্পের নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. সাইদুজ্জামানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে এই নথিপত্র তলব করা হয়। চিঠির অনুলিপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এই তথ্যটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। এরপর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিসিবি থেকে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণসংক্রান্ত টেন্ডার, কনসালট্যান্ট নিয়োগের নথিপত্র এবং বিসিবির বিভিন্ন আয়-ব্যয়ের যাবতীয় রেকর্ডপত্র তলব করে চিঠি দিয়েছে দুদক টিম। নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত জামাতা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বিসিবি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগের বিজ্ঞাপন, ইওআই (EOI) ও প্রোপোজাল ডকুমেন্ট, ইভ্যালুয়েশন ক্রাইটেরিয়া ও রিপোর্ট, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, কনসালট্যান্ট নিয়োগের গোপনীয় কস্ট ইস্টিমেট ও চুক্তিপত্রের কপি। এছাড়া ঠিকাদার নিয়োগ পদ্ধতি, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত দলিল এবং জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নাজমুল হাসান পাপন সভাপতি থাকাকালীন বিসিবির আয়-ব্যয় সংক্রান্ত অডিট প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসির লভ্যাংশ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালার কপি, লজিস্টিকস ও প্রটোকল এবং বিপিএল (BPL) বাবদ খরচের বিবরণী তলব করা হয়েছে। এর বাইরে বিদেশি কোচ নিয়োগের নীতিমালা, তাদের সম্মানী ও বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রমাণপত্র এবং ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব ১০০’ ও ২০১৯ সালের ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ এর নামে ব্যয়িত অর্থের রেকর্ডপত্র ও নোটশীট চাওয়া হয়েছে। একই সাথে ভারতীয় সংগীত ব্যক্তিত্ব এ. আর. রহমানের কনসার্ট আয়োজন সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং কোন অডিট ফার্ম দ্বারা বিসিবির অডিট করানো হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তালিকা ও বিল প্রদানের রেকর্ডপত্রও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দুদক।



