টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সুমি (১৭) ও মোহাম্মদ তাওসিফ (১১)। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহীদ দেলোয়ার জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।



