২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দল নিয়ে নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ আবারও আলোচনায় এসেছে। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হারের পর আবেগঘন মন্তব্যে বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেও, ২০৩০ বিশ্বকাপে তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ তার এই বক্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ।
তবে সমর্থকদের একটি বড় অংশের বিশ্বাস, ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের জন্য ২০৩০ বিশ্বকাপ এখনো অসম্ভব নয়। তাদের যুক্তি, ২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ৩৯ বছর এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সেও খেলেছেন। ফলে বয়স একমাত্র বাধা নয়।
চলতি বিশ্বকাপে নেইমার মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেন এবং শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন। এরই মধ্যে কনটেন্ট নির্মাতা নার্ড সোল-এর তৈরি একটি এআই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওটিতে ২০২৬ সালের নেইমারকে নিজের শৈশবের সংস্করণের সঙ্গে কথোপকথন করতে দেখা যায়। সেখানে বিশ্বকাপ জয়ের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা উঠে আসে। পরে ভবিষ্যতের একটি দৃশ্যে ২০৩০ সালের নেইমারকে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেখানো হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে প্রশ্ন রাখা হয়—‘এখনো কি সময় আছে? শেষবারের মতো কি বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন নেইমার?’
ভিডিওটি দেখে নেইমার কয়েকটি আবেগঘন ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তার মন্তব্যে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০ লাখ লাইক পড়ে। এরপর থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে নেইমার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি। অন্যদিকে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল এস্পোর্তে দাবি করেছে, জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তিনি ইতোমধ্যেই নিয়েছেন এবং ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে না। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও নেইমারের জায়গা নেই। এছাড়া ক্লাব সান্তোসে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।



