ফুটবল বিশ্বে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মরক্কো। দেশটির কাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান ২ স্টেডিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামকে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, তখন মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিশাল এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মরক্কো। ২০২৪ সালের আগস্টে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটির প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। মরক্কোর লক্ষ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের মাটিতে আয়োজন করা।
স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করেছে মরক্কোর স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ওয়ালালু ও হোই এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পপুলাস। আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এই নকশা।
স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিশাল অ্যালুমিনিয়ামের ছাদ, যার নকশা নেওয়া হয়েছে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসেম’ উৎসবের তাঁবু থেকে। এতে মাঠ ও দর্শক গ্যালারির ওপর ভাসমান ছাউনির মতো নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার উত্তরে এল মানসুরিয়া এলাকায় ১০০ হেক্টরের বেশি জমির ওপর গড়ে উঠছে এই মেগা প্রকল্প। স্টেডিয়ামের পাশাপাশি এখানে থাকবে সবুজ উদ্যান, খোলা জায়গা, হোটেল, শপিং সেন্টার, ইনডোর সুইমিং পুল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামের রেকর্ডটি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে নাও পারে গ্র্যান্ড হাসান ২ স্টেডিয়াম। কারণ, ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ত্রং ডং স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে, যার সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক।



