ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সামরিক ড্রোন মোতায়েন করেছে শ্রীলংকা সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন অন্তত ৫৬ জন।
শ্রীলংকার ন্যাশনাল ডেঙ্গু কন্ট্রোল ইউনিট (NDCU) জানিয়েছে, দেশটির ১৬২টি প্রশাসনিক বিভাগকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানী কলম্বোতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়াকে-এর নির্দেশে সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিইএনভি-২ (DENV-2) নামের ডেঙ্গু ভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক স্ট্রেন চলমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।
মৌসুমি বৃষ্টির কারণে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি শনাক্ত করতে শ্রীলংকা বিমানবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করছেন।
চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৮ হাজারের বেশি নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অতিরিক্ত শয্যা, বিশেষ ওয়ার্ড এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ডিসেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর ধ্বংসাবশেষে জমে থাকা পানির কারণে মশার প্রজনন বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা স্বাস্থ্য খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
সরকার জানিয়েছে, চলতি মাসেই ১১ হাজারের বেশি মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং অবহেলার দায়ে চার হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগস্টে বৃষ্টিপাত কমলে সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে। তবে নভেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হলে আবারও ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতালের চাপ কমাতে মৃদু উপসর্গের রোগীদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে শ্রীলংকা সরকার।



