ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) হত্যার দায়ে স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিয়ের তিন বছর পর যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রমার মৃত্যুকে শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও টাকা দেওয়া হলেও স্বামী মনোজিত সন্তুষ্ট হননি এবং অতিরিক্ত এক লাখ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় রমাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। ওই ঘটনায় রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করেন।
একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন বা হত্যার ঘটনায় অপরাধীরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।



