রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আগের দিনের ঘটনার জেরে সোমবার (২৭ জুলাই) ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে প্রবেশ করে মারধর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্কৃত বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রক্টর দপ্তরে বৈঠক হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের সময় এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গেলে সেখানে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় কাঠ, বাঁশ, রড ও বেল্ট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মতের পার্থক্য বা রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়েছে। তবে ছাত্রশিবিরের নেতারা এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাকসুর নেতারা দাবি করেছেন, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠন গ্রন্থাগারে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



