ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দেশটির বোর্দো শহরের কাছাকাছি পর্যন্ত আগুন পৌঁছে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দাবানল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বোর্দোর মেয়র থমাস কাজেনাভ। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে আরও মানুষকে সরিয়ে নিয়ে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গিরন্দ অঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, দেশটি নজিরবিহীন এক দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। তার মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।
বর্তমানে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকল বাহিনী। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হলে আগুন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ম্যাক্রোঁ জানান, লঁদ অঞ্চলের একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও গিরন্দ এলাকায় এখনও আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
সেস্তা শহরের মেয়র জেরোম স্টেফ জানিয়েছেন, মাত্র দুই দিনের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে শহরের প্রায় ১৭ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে এবং শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, চলতি বছর দেশটি ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
তিনি জানান, অধিকাংশ দাবানলের সূত্রপাত মানুষের অসতর্কতার কারণে হয়েছে। ফেলে দেওয়া সিগারেট, বারবিকিউ এবং নিরাপত্তাবিধি না মানার কারণে অনেক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কিছু আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ফ্রান্সের পাশাপাশি প্রতিবেশী স্পেনেও দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।



