পাকিস্তানে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) সন্ত্রাসবিরোধী ৪০ হাজারের বেশি গোয়েন্দাভিত্তিক ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে ২ হাজার ৮৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানে ২৮টি আত্মঘাতী হামলাসহ মোট ৩ হাজার ১৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জবাবে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বেলুচিস্তানেই ৩১ হাজারের বেশি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে। দেশজুড়ে পরিচালিত এসব অভিযানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়।
সেনা মুখপাত্র বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা নয়; অস্ত্র ত্যাগ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চলমান সংঘাতে পাকিস্তানেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলতি বছর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৩০৩ জন সেনাসদস্য, ১৯৪ জন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে সেনাবাহিনী জানায়, অবৈধ আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ লাখ আফগান নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন।



