ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাল্যবিবাহের আয়োজন ও সহায়তার অভিযোগে বর, কনের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় কনের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের রামেরকান্দা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বর ফরহাদকে (১৯) এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কনের বাবা আজিজুল হক (৪০) ও ঘটক হাসানকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কনের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিয়ের সঙ্গে জড়িত কাজী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, রামেরকান্দা গ্রামে ১১ বছরের এক শিশুর বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দণ্ড দেওয়া হয়।
কেরানীগঞ্জের ইউএনও ওমর ফারুক বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাজীকেও আটকের চেষ্টা চলছে।
তবে কনের বাবা আজিজুল হক দাবি করেছেন, ছেলের পরিবারের লোকজন তার ১১ বছরের মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো তিনি আসামি হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বরপক্ষের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, তৃতীয় একটি পক্ষ সুবিধা না পেয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে তাদের বিপদে ফেলেছে।



