পাবনা থেকে পেঁয়াজ নিয়ে দেশের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসেছেন ট্রাকচালক মোহাম্মদ মাসুদ। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি খাতুনগঞ্জে পৌঁছান। তাঁর হিসাবে, পাবনা থেকে চট্টগ্রাম এসে আবার ফিরে যেতে একটি ট্রাকে প্রায় ২২০ লিটার ডিজেল লাগে। লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ায় পুরো যাত্রায় শুধু ডিজেলের পেছনেই অতিরিক্ত ৪ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হবে।
জ্বালানি তেলের বাড়তি এই খরচ ইতিমধ্যে পণ্য পরিবহনের ভাড়াতেও যুক্ত হতে শুরু করেছে। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিসের আড়তে মঙ্গলবার পাবনা থেকে এক ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে। তেলের দাম বাড়ার আগে পাবনা থেকে এক ট্রাক পণ্য আনতে ভাড়া ছিল ২৮ হাজার টাকা। একই ট্রাকের জন্য মঙ্গলবার ভাড়া দিতে হয়েছে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক ট্রাকেই ভাড়া বেড়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
কুষ্টিয়া থেকেও খাতুনগঞ্জে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে কুষ্টিয়া থেকে খাতুনগঞ্জে এক ট্রাক পণ্য আনতে ভাড়া ছিল ৩২ হাজার টাকা। তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর একই পথে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে ৮ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও সাভারে পণ্য পাঠাতেও আগের তুলনায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পণ্য পরিবহনমালিকদের সংগঠন।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খাতুনগঞ্জে পণ্য আনা এবং খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের অন্যান্য এলাকায় পণ্য পাঠানোর খরচ এভাবেই বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিবহনের এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে যুক্ত হতে পারে।
খাতুনগঞ্জ এবং আশপাশের চাক্তাই-আছদগঞ্জ এলাকায় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, গম, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব বাজারে পণ্য আসে। আবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্যও এই বাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়।
এ কারণে খাতুনগঞ্জের পণ্য পরিবহনে দুই দিক থেকেই জ্বালানির বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে। দেশের উৎপাদন এলাকা থেকে পণ্য খাতুনগঞ্জে আনতে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। আবার খাতুনগঞ্জ থেকে ঢাকা, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পাঠাতেও পরিবহন খরচ বেড়েছে।
পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া নির্ধারণে দূরত্বের পাশাপাশি ট্রাকের ধরন ও ধারণক্ষমতা, পণ্যের পরিমাণ, গাড়ির চাহিদা এবং ফিরতি পথে পণ্য পাওয়া যাবে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় আসে। ফলে একই দূরত্বে সব ধরনের ট্রাকের ভাড়া এক নয়।
পাবনা থেকে আসা ট্রাকটির চালক মোহাম্মদ মাসুদের হিসাবে, পাবনা থেকে চট্টগ্রাম এসে আবার ফিরে যেতে প্রায় ২২০ লিটার ডিজেল লাগে। নতুন দামে একই পরিমাণ ডিজেল কিনতে আগের তুলনায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা বেশি লাগবে। তাঁর ক্ষেত্রে জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং ট্রাকভাড়া বৃদ্ধির অঙ্কও প্রায় কাছাকাছি।
পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স বরকত ভান্ডারের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, গত রোববার কুষ্টিয়া থেকে এক ট্রাক পণ্য আনতে তাঁদের ৩২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়েছিল। তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর একই পথে এখন ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যবধান ৮ হাজার টাকা।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়লে ব্যবসায়ীরা তো সেই টাকা নিজের পকেট থেকে দিতে পারবেন না। সেটি পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হবে। আমাদের হিসাবে পণ্যভেদে কেজিতে ১ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব যাবে।’
খাতুনগঞ্জ থেকে ঢাকায় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, গম, পেঁয়াজ, রসুন, মসলাসহ প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্য যায়। ফলে এই পথে পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব শুধু চট্টগ্রামের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সওজের তথ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার। তবে খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য তুলে ঢাকার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রকৃত দূরত্ব কিছুটা কমবেশি হয়।
সওজের যানবাহন পরিচালন ব্যয়ের হিসাব ধরে ২৫০ কিলোমিটার পথে মাঝারি ট্রাকে প্রায় ৫০ লিটার এবং ভারী ট্রাকে প্রায় ৬২ দশমিক ৫ লিটার ডিজেল লাগতে পারে। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়লে একমুখী যাত্রায় শুধু ডিজেলেই মাঝারি ট্রাকে প্রায় ১ হাজার টাকা এবং ভারী ট্রাকে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা বাড়তি খরচ হতে পারে। যাওয়া-আসা ধরলে বাড়তি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে এটি একটি আদর্শ হিসাব। বাস্তবে গাড়ির আকার, ইঞ্জিন, পণ্যের ওজন, যানজট ও চালানোর ধরনের ওপর জ্বালানি খরচ কমবেশি হতে পারে।
খাতুনগঞ্জ থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়মিত পণ্য পরিবহন করেন ট্রাকচালক মহিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা গিয়ে ফিরে আসতে তাঁর বড় ট্রাকে ১০০ থেকে ১১০ লিটার ডিজেল লাগে। তাঁর হিসাবে লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ায় একটি পূর্ণযাত্রায় শুধু ডিজেলেই অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে।
তবে বাজারে ভাড়া শুধু বাড়তি ডিজেল খরচের সমান হারে বাড়ছে না। বাংলাদেশ কভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও সাভার পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়িতে এখন আগের চেয়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসা–যাওয়ার ভাড়া ৩৭ থেকে ৩৮ হাজার টাকা। তেলের দাম বাড়ার আগে এই ভাড়া ছিল ৩০ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকা।’
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহও পরিবহন খরচ বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো কোনো পথে আগে একটি পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া ছিল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন সেখানে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
এহসান উল্লাহ বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও কেনাবেচা—সব ক্ষেত্রেই তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে। পরিবহন খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়বে।
একবারে লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানো নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাঁর। জ্বালানির দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকলেও একবারে এতটা না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ালে ব্যবসা ও বাজারের জন্য বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সহজ হতো বলে মনে করেন তিনি।
জ্বালানির নতুন দাম কার্যকরের প্রথম দিনেই চাল পরিবহনের খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমাদের হিসাবে ২৫ কেজির এক বস্তা চাল পরিবহনে আগের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। পরিবহনভাড়া আরও বাড়লে চালের ওপর খরচও আরও বাড়বে।’
২৫ কেজির এক বস্তায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়তি খরচ হলে কেজিপ্রতি বাড়তি পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৬০ পয়সা। তবে এটি শুধু পরিবহনের বাড়তি খরচের হিসাব।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পণ্য পরিবহনের শেষ ধাপে পড়বে না। কৃষিপণ্যের উৎপাদন পর্যায়েও খরচ বাড়তে পারে। এরপর সেই পণ্য বাজারে আনতে আবার পরিবহন খরচ দিতে হবে।
মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘কৃষকের খরচ বাড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়বে, পরিবহন খরচও বাড়বে। ফলে এক জায়গায় নয়, কয়েক ধাপে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে।’
তাঁর হিসাবে, একটি ট্রাকের ভাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়লে পণ্যভেদে শুধু পরিবহন খরচের কারণে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা বা তার বেশি খরচ যোগ হতে পারে।
দূরের জেলা বা বন্দর থেকে খাতুনগঞ্জে পণ্য পৌঁছানোর পরও পরিবহন শেষ হয় না। খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য আবার চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা দোকানে নিয়ে যেতে হয়। সেই পর্যায়েও খরচ বাড়ছে।
মেসার্স বরকত ভান্ডারের সামনে কথা হয় পিকআপচালক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি খাতুনগঞ্জ থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পৌঁছে দেন। তাঁর পিকআপে দিনে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল লাগে। লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ায় তাঁর দৈনিক জ্বালানি খরচ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা বেড়েছে।
এত দিন পেঁয়াজের প্রতি বস্তা পরিবহনে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা নিতেন হাবিবুর। এখন বস্তাপ্রতি ১ থেকে ৫ টাকা বেশি নিতে হবে বলে তাঁর হিসাব।
হাবিবুর বলেন, ‘এক ধাক্কায় তেলের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। আগের ভাড়ায় গাড়ি চালালে খরচ উঠবে না। তাই ভাড়াও কিছুটা বাড়াতে হবে।’
আরেক পিকআপচালক মোহাম্মদ সুমন জানান, আগে প্রতিদিন তাঁর ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার ডিজেল লাগত। নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় এখন সেই খরচ ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁর হিসাব।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রামের সবজির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার রেয়াজউদ্দিন বাজারের পরিবহনেও। রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক শিবলী জানান, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের মতো এলাকা থেকে সবজি আনার ট্রাকভাড়া ইতিমধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মো. ফারুক শিবলীর ভাষ্য, এসব এলাকা থেকে একটি ট্রাকের ভাড়া আগে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকা ছিল। এখন ৪১ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একটি ট্রাকে বর্তমান বাড়তি পরিবহন ব্যয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। সবজির ভরা মৌসুমে গাড়ির চাহিদা বাড়লে ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
চট্টগ্রামের কাছাকাছি উৎপাদন এলাকা থেকেও পরিবহন খরচ বেড়েছে। ফারুক শিবলীর হিসাবে, চকরিয়া, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট পিকআপে সবজি আনতে গাড়িভেদে আগের চেয়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।
তবে পরিবহন খরচ বাড়লেও এখন পর্যন্ত পাইকারি বাজারে সবজির দাম একই হারে বাড়েনি। সবজি পচনশীল পণ্য হওয়ায় সরবরাহ বেশি এবং ক্রেতা কম থাকলে বাড়তি পরিবহন খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়মূল্যে যোগ করা যায় না। ফলে এখন বাড়তি খরচের একটি অংশ কৃষক ও ব্যাপারীর ওপর পড়ছে।
ফারুক শিবলী বলেন, ‘আমরা গাড়িভাড়া পরিশোধ করি। পরে ব্যাপারীর চালান থেকে সেই টাকা কেটে নেওয়া হয়। পণ্য বিক্রির টাকা থেকে গাড়িভাড়া ও কমিশন বাদ দেওয়ার পর তাঁদের হাতে টাকা কম যাচ্ছে।’
তবে এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহনের বাড়তি খরচ পণ্যের দামেও যুক্ত হবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী এক দিন লোকসান দিতে পারেন। প্রতিদিন তো লোকসান দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন না। পরিবহন খরচ বাড়লে কোনো না কোনো পর্যায়ে সেই খরচ পণ্যের দামে আসবে।’



