ফরিদপুরের সালথায় যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে সমর্থকদের ‘অস্ত্র বানানোর’ কথা বলতে এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সালথা উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি সভায় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে সমর্থকদের উদ্দেশে অস্ত্র তৈরির কথা বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তিনি তা দেখবেন—এমন বক্তব্যও ভিডিওতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটির বিষয়ে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, তার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি রেখে দিয়েছে। তিনি দলীয় লোকজন দিয়ে বিষয়টি সমাধান না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা করছেন।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, ভিডিওটি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রফিকুল ইসলাম ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যদুনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও বর্তমান মামলাগুলোর অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।



