ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় কারাভোগের পর স্ত্রীকে কুপিয়ে এক হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ওবায়দুল্লাহ সরকার (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তারাকান্দা উপজেলার গোয়ালকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওবায়দুল্লাহ একই গ্রামের তহুর উদ্দিন সরকারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। তার তিনটি বিয়ে হয়েছে। তৃতীয় স্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরের বাসিন্দা। ওই নারী স্বামী মারা যাওয়ার পর ওবায়দুল্লাহকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তার আগের সংসারের এক কিশোরী মেয়ে ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল্লাহ তার স্ত্রীর ওই কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে, ওই নারী মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে বিদেশে চলে যান। বিদেশে যাওয়ার প্রায় চার বছর পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। এর মধ্যে ওবায়দুল্লাহ কারাগার থেকে মুক্তি পান।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মীমাংসার কথা বলে ওই নারীকে তারাকান্দার গোয়ালকান্দি গ্রামে নিয়ে আসেন ওবায়দুল্লাহ। সন্ধ্যার পর মামলা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে ওই নারীকে কোপানো হয়। এতে তার এক হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে ওই নারীর ওপর হামলা চালান ওবায়দুল্লাহ। নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ বলেন, আহত নারীর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা থানায় এলে মামলা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



