ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকেরা। পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করে। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তখন পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের ধাওয়া দেয়। পাশাপাশি জলকামান থেকে পানি ছোড়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরে আবার একজোট হন। তাঁরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর আগে সকাল আটটার দিকে মিরপুরের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোস্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্টেশনের গেট বন্ধ থাকায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সেখানে প্রবেশ করতে না পেরে পরে কাজীপাড়া স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে ওঠেন।
মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মিরপুরের কয়েকটি স্থান থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর মোড় অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
একই দাবিতে শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। তাঁদের অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া কালশী এলাকায় একটি পোশাক কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন শ্রমিকেরা।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।



