টাঙ্গাইলে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এটি দেখার পর সবাই মর্মাহত হয়েছেন। এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের সব পর্যায়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।’
শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার আমি বহন করব। এখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হলে আগামীকালই তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত বলে শুনেছেন জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে মাদকমুক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শহরকে নিরাপদ রাখা, অপরাধ ও মাদকের বিস্তার কমানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার নির্জন স্থানে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি চিৎকার করে বাধা দিলে অভিযুক্ত বিপ্লব (২২) ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।
পরে এক রিকশাচালক শিশুটিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



