অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান রাজনীতিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
টরন্টো-এর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তিনি লিবারেল পার্টি অফ কানাডা-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। তার এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনগুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্টারিও ও কুইবেকের কয়েকটি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মাত্র একটি আসনে জয় পেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হতো লিবারেলদের। ডলি বেগমের বিজয় সেই পথকে সুগম করে তোলে।
এই ফলাফলের ফলে এখন কানাডার পার্লামেন্ট-এ লিবারেলদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে সরকার এখন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, যা আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
ডলি বেগমের রাজনৈতিক যাত্রা নতুন নয়। এর আগে তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে টানা তিনবার এমপিপি হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথমবার ২০১৮ সালে এবং পরবর্তীতে ২০২২ ও ২০২৪ সালে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি-এর প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। কানাডার তিন স্তরের সরকার ব্যবস্থায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
চলতি বছরে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হওয়ার পর লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পান তিনি। দল পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় ডলি বেগম বলেন, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ কানাডা গড়ে তুলতে কাজ করতে চান। তার এই অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই ভোটারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডলি বেগম মাত্র ১২ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন জনসেবার জন্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল পর্যায়ে তার এই উত্তরণ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি গর্বের বিষয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এটি মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



