ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টার কারণে যশোর বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আটকে আছেন।
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকায় সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একদল মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায়। ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার জয়ন্তীপুর সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের এই সাদিপুর সীমান্তে বিএসএফ কাঁটাতারের একাধিক গেট খুলে দিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশব্যাকের এই অপচেষ্টা করে।
তবে সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জোরালো ও কড়া হস্তক্ষেপে বিএসএফের এই জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র থেকে জানা যায়, এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি বড় ট্রাকযোগে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসে। এরপর রাতভর তারা একাধিকবার বিভিন্ন গেট দিয়ে এই অসহায় মানুষগুলোকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। পুশব্যাকের সুবিধার্থে বিএসএফ সীমান্তের কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকায় তাদের শক্তিশালী সার্চলাইটগুলোও বন্ধ করে দিয়েছিল; কিন্তু বিজিবির কঠোর ও সাহসী প্রতিরোধের মুখে তাদের কোনো চেষ্টাই সফল হতে পারেনি।
বিজিবির যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছে। উদ্ভূত এই মানবিক ও কূটনৈতিক সংকট নিরসন এবং সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিএসএফের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠকের জোর প্রস্তুতি চলছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে।



