অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ আরও এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬ অংশ) হ্রাস করেছে।
২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তার বরাতে সু চির আইনি দলের একজন সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দেশের একটি সরকারি সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে সব বন্দির সাজা কমানোর ঘোষণা দিলে সু চি-ও এর আওতায় আসেন। এটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তার সাজা কমানোর দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে ঘোষিত এক সাধারণ ক্ষমায় তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড প্রথমবারের মতো এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছিল।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ৮০ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী নেত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। আইনি দলের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই দুই দফার ক্ষমা ও সাজা হ্রাসের পর সু চি-কে আরও ১৮ বছরের কিছু বেশি সময় সাজা ভোগ করতে হতে পারে। তবে এই হিসাবটি কিছুটা অস্পষ্ট, কারণ জান্তা সরকারের বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় এবং তার সাজার কতটুকু অংশ বর্তমানে ভোগ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে তা স্পষ্ট নয়।
অং সান সু চি-কে বর্তমানে ঠিক কোথায় বন্দি করে রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে জান্তা সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। তাকে সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর অন্তরালে একটি অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে এবং তার পরিবার বা আইনজীবীদের সরাসরি সাক্ষাতের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার ছেলে কিম আরিস গত বছর এক সাক্ষাৎকারে সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপের মুখে জান্তা সরকার সম্প্রতি কিছু সাজা কমানোর পদক্ষেপ নিলেও, গণতান্ত্রিক ধারার সমর্থকদের মতে এটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি ‘প্রসাধনী’ চেষ্টা মাত্র।



