যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পারদ এক ধাক্কায় আরও অনেক উঁচুতে উঠে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ দেশটির প্রধান প্রধান তেল ও গ্যাস অবকাঠামো পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতেই ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর ও তীব্র সামরিক হামলা চালাবে বলে তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএন-এর বরাতে এই বিশ্ব কাঁপানো তথ্যটি জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই বিস্ফোরক তথ্য ও হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেন। তিনি পোস্টে লেখেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ এবং ইরানের অন্যান্য প্রধান প্রধান তেল অবকাঠামোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবে, যেমনটি তারা এর আগে ভেনেজুয়েলাতে সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, অতীতে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশলটি উভয় দেশের জন্যই দারুণভাবে কাজ করেছিল এবং এবারও ইরানের ক্ষেত্রে একই কৌশল অবলম্বন করা হবে। তিনি তাঁর পোস্টে আজ রাতেই ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করার সুস্পষ্ট বার্তা দিলেও, এই সম্ভাব্য হামলার ধরন কেমন হবে বা কীভাবে আক্রমণ পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরও দাবি করেন যে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ছোট খার্গ দ্বীপটি অর্থনৈতিকভাবে ইরানের আসল চালিকাশক্তি। কারণ ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান উৎস তথা দেশটির উৎপাদিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই একক দ্বীপের বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে রফতানি হয়ে থাকে। ট্রাম্পের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার এবং দেশের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই পূর্ববর্তী হামলার কারণে বড় ধরনের ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে তিনি জোরালো দাবি করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, কারণ বিশ্ববাজারের তেলের একটি বড় অংশ এই খার্গ দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে দুই দেশই একে অপরের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এই চলমান তীব্র উত্তেজনার কারণে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত এখন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গভীরভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে যদি অনতিবিলম্বে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হয়, তবে পুরো পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক বৃহত্তর ও বিধ্বংসী সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।



