সাবেক এক ছাত্রীর পরিবারকে মুঠোফোনে হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগে বিদ্যুৎ দেবনাথ নামে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারান্দী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল হক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নারান্দী নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর মেয়েকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ দেবনাথকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ১১ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরে বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হলে অভিযোগ পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ দেবনাথকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে চিঠির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই সাবেক ছাত্রী বিদ্যুৎ দেবনাথের কাছে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তেন। এ সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়। এরপর থেকে তাঁর স্বামীকে মুঠোফোনে বারবার কল করে বিরক্ত করা এবং একপর্যায়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিদ্যুৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলামের দাবি, এসব ঘটনার কারণে তাঁর মেয়ের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যুৎ দেবনাথকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরে সোমবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নারান্দী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’



